বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:০২ পূর্বাহ্ন
শিরনাম :
২২ বছর পর খুলনায় তারেক রহমান, সোমবার মহাসমাবেশে নেতৃত্ব দেবেন এক মঞ্চে ৭ প্রার্থী, মুখোমুখি ভোটারদের প্রশ্ন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি ও আচরণবিধি লঙ্ঘন: রুমিন ফারহানাকে নোটিশ **সাংবাদিক শাহিনুর ইসলাম বাবা হয়েছেন মা ও নবজাতক সুস্থ, পরিবারে আনন্দের বন্যা** **দেড়শ বছরের ঐতিহ্যে উচ্ছ্বাসের জোয়ার বড়রিয়ার ঘোড়দৌড় মেলা আলোয়–উল্লাসে ভরপুর** গণফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন জকসু নির্বাচনে শীর্ষ তিন পদেই শিবির-সমর্থিত প্যানেলের সুস্পষ্ট বিজয় মাগুরা মায়ের কৃতি সন্তানের চিরবিদায় — অতিরিক্ত প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মুন্সী জালাল উদ্দিন আর নেই দীর্ঘ ১৯ বছর পর বগুড়া যাচ্ছেন তারেক রহমান মাগুরায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযানে গ্যাস ডিলারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা

এক মঞ্চে ৭ প্রার্থী, মুখোমুখি ভোটারদের প্রশ্ন

তৌহিদ মাগুরা প্রতিনিধি

নোমানী ময়দানে মাগুরার উন্নয়ন, রাজনীতি ও জনগণের প্রত্যাশা নিয়ে ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন

উন্নয়ন, রাজনীতি ও জনগণের প্রত্যাশা—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে মাগুরায় এই প্রথম ব্যতিক্রমধর্মী সরাসরি প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে অংশ নিলেন জেলার দুটি আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীরা। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শহরের ঐতিহাসিক নোমানী ময়দান মাঠে অনুষ্ঠিত হয় “উন্নয়ন, রাজনীতি ও জনগণের প্রত্যাশা: জনগণের মুখোমুখি মাগুরার প্রার্থীরা” শীর্ষক এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন।
সরষে ভরা মাঠ, বাওড়ে ঘেরা জলাভূমি আর বাউল–ভাটিয়ালির সুরে মোড়া এক মোহনীয় জনপদ—আমাদের মাগুরা। শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য ও আন্দোলনের ইতিহাসে এই ছোট্ট জেলা বারবার নিজের শক্ত অবস্থানের জানান দিয়েছে। সেই মাগুরার প্রতি ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা থেকেই দীর্ঘদিন ধরে এস এইচ মিডিয়া অনলাইন ও মাগুরা টক ডিজিটাল মাধ্যমে মাগুরাকে ব্র্যান্ডিং করে আসছে।
অনুষ্ঠানে নিজের বক্তব্যে এস এইচ মিডিয়া অনলাইন ও মাগুরা টকের কর্ণধার সাংবাদিক শাহিনুর ইসলাম বলেন,


“মাগুরাকে শুধু একটি জেলা হিসেবে নয়, একটি সম্ভাবনাময় জনপদ হিসেবে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য। মাগুরার ইতিহাস, সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও মানুষের জীবনসংগ্রামকে ডিজিটাল মাধ্যমে দেশ–বিদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মাগুরার উন্নয়নে সব সময় পাশে থাকার অঙ্গীকার থেকেই আমাদের পথচলা।”
তিনি আরও বলেন,
“মাগুরা টক শুরুর সময় আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম—এই প্ল্যাটফর্ম হবে জনগণের, যেখানে রাজনীতিবিদরা জনগণের মুখোমুখি হবেন। জনগণের কথা, চিন্তা ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়েই আজকের এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন ‘মাগুরার উন্নয়ন নিয়ে ভাবনা—জনগণের মুখোমুখি রাজনীতিবিদ’ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।”

জাতীয় পর্যায়ের টকশোর অনুকরণ নয়; বরং মাগুরার বাস্তবতা, সমস্যা ও সম্ভাবনাকে সামনে রেখে গড়ে ওঠা মাগুরা টক একটি ভিন্নধর্মী ও অংশগ্রহণমূলক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ইতোমধ্যে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে।
অনুষ্ঠানের সরাসরি প্রশ্নোত্তর পর্বটি দক্ষতা ও ভারসাম্যের সঙ্গে পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ফাইনান্সের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও, জাতীয় পর্যায়ে অর্থনীতি ও আর্থিক খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলা মাগুরা মায়ের কৃতি সন্তান মোহাম্মদ কায়সার হামিদ লোভন। এই অনুষ্ঠানের দক্ষ মডারেশনের দায়িত্বও তিনি পালন করেন এবং তাঁর সাবলীল উপস্থাপনা ও কার্যকর পরিচালনায় পুরো অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও গতিশীল। আলোচনার বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য ও প্রশ্ন—কীভাবে পরিকল্পিতভাবে মাগুরার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়—তা বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় উঠে আসে এবং অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে গঠনমূলক ভাবনার জন্ম দেয়।
অনুষ্ঠানে মাগুরা–১ ও মাগুরা–২ আসনের মোট ৭ জন সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সরাসরি ভোটারদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন। উপস্থিত প্রার্থীরা হলেন—মাগুরা–১ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মনোয়ার হোসেন খান, জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মতিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মাওলানা নাজিরুল ইসলাম, বাসদের মনোনীত ও জেলার একমাত্র নারী প্রার্থী প্রকৌশলী শম্পা বসু, বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী অ্যাডভোকেট কাজী রেজাউল ইসলাম এবং মাগুরা–২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী সহকারী অধ্যাপক মাওলানা এম. বি. বাকের ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি মোস্তফা কামাল।
ভোটারদের প্রশ্নে উঠে আসে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান, দুর্নীতি, মাদক, বেকারত্ব, নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা ও চাঁদাবাজির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। প্রশ্নের জবাবে বিএনপির প্রার্থী মনোয়ার হোসেন খান বলেন, বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফার ভিত্তিতেই মাগুরার উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়া হবে। বাসদের প্রার্থী প্রকৌশলী শম্পা বসু বলেন, নারী–পুরুষ নির্বিশেষে জেলার উন্নয়নে সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই তাঁর লক্ষ্য। জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা কৃষি উন্নয়ন, নৈতিক রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের ন্যায্য ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে জনগণের পক্ষ থেকে প্রশ্ন রাখেন প্রাক্তন শিক্ষক আব্দুর রশিদ বিশ্বাস, মাগুরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শফিকুল ইসলাম, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিবন্ধী কৃষক আক্কাস খান, ডিজিটাল উদ্যোক্তা রেজওয়ান কবির, নারী উদ্যোক্তা সামিয়া ইয়াসমিন শশী, কৃষক সংগঠক রুবায়েত হোসেন খানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রায় এক হাজারেরও বেশি নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ জনগণের উপস্থিতিতে ২৪/০১/২০২৬ তাং নোমানী ময়দান পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত গণআলোচনার মঞ্চে। একই মঞ্চে দর্শকের সামনে সাতজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর সরাসরি ভোটারদের প্রশ্নোত্তরের এই আয়োজন মাগুরার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
আয়োজকদের মতে, উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়, যখন জনগণ কথা বলে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নেয়। নোমানী ময়দান মাঠের এই জনসমাবেশ অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি ও উন্নয়নের একটি বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ