
রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের অস্থিরতা তৈরির পাঁয়তারা শুরু করেছে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পথচলার শুরু থেকেই পরাজিত শক্তিগুলো দেশের স্থিতিশীলতা নষ্টে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা। এবার বড় ধরনের নাশকতার ছক নিয়ে মাঠে নামে বাহাউদ্দিন নাছিম ও সাইফুজ্জামান শেখরের অনুসারীরা। রাজধানীর একটি কনভেনশন হলে ৪০০ নেতাকর্মীকে নিয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের আয়োজন করে তারা।
৮ জুলাই সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ওই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চলে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শাহবাগসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে দখল নেয়ার চেষ্টা এবং সহিংসতা সৃষ্টির প্রস্তুতি চলছিল।
গ্রেফতার ও তদন্ত
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ইতোমধ্যে শম্পা, সোহেল রানাসহ ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে, যাদের অধিকাংশ ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাদের বিরুদ্ধে রাজধানীর ভাটারা থানায় মামলা হয়েছে এবং দুই দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
গোপনীয়তার চরম চেষ্টা
জানা যায়, ওই কনভেনশন হল ভাড়া নেয়া হয় একটি জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের আড়ালে। বলা হয়েছিল, বিদেশে কর্মী পাঠানোর জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বুকিং দেন গোপালগঞ্জের শামীমা নাসরিন শম্পা, যিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। পুরো পরিকল্পনার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে উঠে এসেছে বরগুনার যুবলীগ নেতা সোহেল রানার নাম।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা ছদ্মবেশে উপস্থিত হন। কেউ রাজমিস্ত্রি, কেউ কার্পেন্টার, কেউ বা বাগান পরিচর্যাকারী পরিচয়ে রেজিস্ট্রেশন করেন।
গোয়েন্দা তথ্য ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও বিশেষ শাখা (এসবি) বিষয়টি শনাক্ত করে ডিবিকে জানায়। এরপরই অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় পরিকল্পনাকারীদের।
গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্টের মধ্যে যেকোনো সময় বড় ধরনের নাশকতা ঘটাতে পারে এই চক্র। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।
পুলিশের অবস্থান
ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, “২৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে—এ বিষয়ে আমরা প্রস্তুত। কোথাও কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তিকে জায়গা দেওয়া হবে না।”
ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, “পরাজিত শক্তির এই অপচেষ্টা আমরা অবগত আছি। মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। জননিরাপত্তায় কোনো ছাড় নেই।”