
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। মামলার অন্যতম আসামি সাবেক আইজিপি পরে অ্যাপ্রুভার হিসেবে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে কম দণ্ড প্রদান করা হয়।
সোমবার দুপুরে ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় ঘোষণা করা হয়। সকালেই কড়া নিরাপত্তার মধ্যে প্রিজন ভ্যানে করে মামুনকে আদালতে আনা হয়। তিনি ছিলেন মামলার একমাত্র হাজির থাকা আসামি। অন্য দুইজন বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন।
পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত
মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল। সেগুলো হলো—
১) উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান,
২) আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ,
৩) রংপুরে শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা,
৪) রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জনকে গুলি করে হত্যা,
৫) আশুলিয়ায় ছয়জনকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা।
রায়ে আদালত জানায়, এ পাঁচটি অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ
রায়ের পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনাল মন্তব্য করে— আন্দোলন দমনে হত্যাকাণ্ড, গুলি এবং সহিংসতা ছিল “পরিকল্পিত এবং নির্দেশনাভিত্তিক”, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। আদালতের মতে, দায়ী ব্যক্তিদের নির্দেশ ছাড়া এই নৃশংসতা সংঘটিত হওয়া সম্ভব ছিল না।
নজিরবিহীন অ্যাপ্রুভার
এই মামলায় প্রথমবারের মতো কোনো সাবেক আইজিপি অ্যাপ্রুভার (রাজসাক্ষী) হিসেবে আদালতে স্বীকারোক্তি দেন। তার আবেদন আদালত মঞ্জুর করলে মামলার প্রক্রিয়ায় নতুন মোড় আসে।
মামলার পটভূমি
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠিত হয়। জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে প্রথম মামলা দায়ের হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। পরে তদন্তে আরও প্রমাণ যুক্ত হওয়ায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সাবেক আইজিপিকে পৃথকভাবে আসামি করা হয়।
আরো তিন মামলার মুখোমুখি শেখ হাসিনা
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আরও তিনটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে— যার মধ্যে দুটি গুম-খুনের অভিযোগ এবং একটি সামাজিক আন্দোলনে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় দায়ের করা মামলা।