
মাগুরার সন্তান, গেরিলা যোদ্ধা, প্রকৌশলী — “কমলের চোখ” আজও জাগিয়ে রাখে দেশপ্রেমের আলো

আজ থেকে এক বছর আগে, ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর, চির বিদায় নিয়েছিলেন বীর উত্তম মাসরুর উল হক সিদ্দিকী কমল। মাগুরার গর্বিত সন্তান, মহান মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখযোদ্ধা, গেরিলা যোদ্ধা ও প্রকৌশলী কমল শুরু থেকেই ছিলেন যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে।

১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের ১৪/১৫ তারিখে ফরিদপুরের বোয়ালমারির পর ভাটিয়াপাড়ায় সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিতে গিয়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। সেই যুদ্ধে তাঁর ডান চোখ ছিন্ন হয়ে যায়। দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজের দৃষ্টিশক্তি উৎসর্গ করেছিলেন এই বীর যোদ্ধা।
ফরিদপুরের সেই ভাটিয়াপাড়ার আরেক নাম আজ “কমল নগর” — তাঁর বীরত্বের অমর স্মারক। রাজধানীর ধানমন্ডি ৯/এ রাস্তার নামও তাঁর নামে “বীর উত্তম মাসরুর উল হক সিদ্দিকী কমল রোড”।

কমলের রত্নগর্ভা মা যুদ্ধে যাওয়ার আগে নিজ হাতে রান্না করে খাইয়ে বিদায় দিয়েছিলেন সন্তানকে। এমন মা ও এমন সন্তানই জাতির গৌরব।
কমলের বীরত্বে অনুপ্রাণিত হয়ে কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ লিখেছিলেন বিখ্যাত কবিতা “কমলের চোখ” — যা আজ কিংবদন্তিতে পরিণত।
তিনি ছিলেন ছয় ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট। সংস্কৃতিমনা, সংগীতপ্রেমী কমল দারুণ তবলা বাজাতেন এবং ছায়ানটের সাথেও যুক্ত ছিলেন। তাঁর বড় ভাই সাবেক মন্ত্রী মরহুম এম মাজিদুল হক এর কন্যা ডা. সিমিন এম মজিদ আখতার, যিনি সবসময় তাঁর দেশপ্রেম, আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলেন।
চাকরিজীবনে কমল পানি উন্নয়ন বোর্ডে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। পানি, নদী, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশ গবেষণায় তাঁর কাজ ছিল প্রশংসনীয়। আন্তর্জাতিক সংস্থায়ও দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি।
মানুষ হিসেবে ছিলেন অত্যন্ত সহজ-সরল, আড্ডাপ্রিয়। মাগুরায় এলে সবার সঙ্গে মিশে যেতেন অনায়াসে। তাঁর গল্প, তাঁর অভিজ্ঞতা—সবই ছিল পরবর্তী প্রজন্মের জন্য শিক্ষা ও প্রেরণার উৎস।
২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বনানী কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
বীরের মৃত্যু হয় না—বীরের স্মৃতি, অবদান, ও আদর্শ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বেঁচে থাকে।
মাগুরার নতুন প্রজন্ম জানুক, তাদেরই এক কৃতী সন্তান বীর উত্তম মাসরুর উল হক সিদ্দিকী কমল ছিলেন এক কিংবদন্তি মুক্তিযোদ্ধা, প্রকৌশলী ও মানবিক বীর।