
দল-মত নির্বিশেষে মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে মাগুরার দুর্গোৎসব—৬২১ মণ্ডপে আলোকসজ্জা আর ঢাকের বাদ্যে মুখরিত গোটা জেলা

মাগুরা জেলার চারটি উপজেলায় একযোগে ৬২১টি পূজা মণ্ডপে শুরু হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। পূজার রঙ, আলো আর ঢাকের বাদ্যে এখন উৎসবমুখর পুরো জেলা। এরই অংশ হিসেবে শ্রীপুর উপজেলায় ১২৬টি পূজা মণ্ডপের শুভ উদ্বোধন করেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, জননেতা আলহাজ্ব আলী আহমেদ—আহ্বায়ক মাগুরা জেলা বিএনপি ও মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী।

শ্রীপুর থানার চিলি গাড়ি সার্বজনীন পূজা মন্দির, সাচিলাপুর বাজার সার্বজনীন পূজা মন্দির, দুরান নগর পূজা মন্দির, রাধানগর পূজা মন্দির, জারিয়া পূজা মন্দির, মধুপুর বাজার পূজা মন্দির ও টেংগাখালী বাজার পূজা মন্দিরসহ বিভিন্ন মণ্ডপে ভক্তরা উচ্ছ্বাসে স্লোগান তুলেন, ফুল দিয়ে বরণ করে নেন আলী আহমেদকে।
আলী আহমেদের আবেগঘন বক্তব্য
মণ্ডপ উদ্বোধন শেষে আলী আহমেদ বলেন—
“দল-মত নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে আজকের পূজা মণ্ডপগুলো উৎসবের মিলনমেলায় রূপ নিয়েছে। মুসলমান ও হিন্দু মিলেমিশে আনন্দ ভাগাভাগি করছে—এটাই আমাদের সম্প্রীতির বাংলাদেশ।”
শৈশবের স্মৃতি মনে করে তিনি আরও বলেন—
“ছোটবেলায় আমরা চিত্রা নদী আর নবগঙ্গা নদীর তীরে পূজা দেখতে যেতাম। নদীর ধারে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রতিমা আর পূজার অনুষ্ঠান উপভোগ করতাম। বিশেষ করে প্রতিমা বিসর্জনের অনুষ্ঠান ছিল আমাদের জন্য সবচেয়ে আনন্দঘন মুহূর্ত। আজ সেই পূজা আবার সবার মিলনমেলায় রূপ নিয়েছে—যা সত্যিই আনন্দের।”
তিনি দৃঢ় কণ্ঠে যোগ করেন—
“তারেক রহমানের নির্দেশনায় সব ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাগুরা জেলা বিএনপি সবসময় মাঠে আছে। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা সর্বদা সচেষ্ট থাকব।”
জেলায় উৎসবের রঙে রঙিন ৬২১ মণ্ডপ
মাগুরা সদর উপজেলায় ২২৫টি, শ্রীপুর উপজেলায় ১৪৯টি, মোহাম্মদপুর উপজেলায় ১০৮টি, শালিখায় ১৩২টি এবং পৌর এলাকায় ২১টি পূজা মণ্ডপে একযোগে দুর্গোৎসব পালিত হচ্ছে। প্রতিমা শিল্পীদের মনের মাধুর্যে তৈরি প্রতিমা আর আলোকসজ্জায় প্রতিটি মণ্ডপ এখন ভক্তদের মিলনকেন্দ্র।

জেলা প্রশাসক মোঃ অহিদুল ইসলাম জানান, শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব সম্পন্ন করতে প্রতিটি পূজা মণ্ডপে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা বলেন, পূজার নিরাপত্তায় ২৮৫ পুলিশ, ৩ হাজার ৮৯২ জন আনসার, ৪২টি মোবাইল টিম ও সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপেই সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত রয়েছে।
সম্প্রীতির বাংলাদেশমাগুরা জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহবায়ক কুমুদ রঞ্জন ও সদস্য সচিব মিহির কান্তি বিশ্বাস বলেন, “এবারের দুর্গোৎসব সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে সম্প্রীতির উৎসবে পরিণত হয়েছে।”
হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরা মনে করছেন, জননেতা আলী আহমেদের পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন শুধু রাজনৈতিক নয়—এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল বার্তা। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তি ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
আগামী বৃহস্পতিবার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের এই মহোৎসব।