
দুর্যোগ-দুর্বিপাক না ঘটলে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন—এটা এখন নিশ্চিত। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতিও ততই বাড়ছে। ইতোমধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকার, নির্বাচন কমিশন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি নিজেদের অবস্থান মজবুত করার চেষ্টা করছে।
সম্প্রতি ইনোভিশন কনসাল্টিংয়ের জরিপে দেখা গেছে, ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট, খুলনা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগে বিএনপি এগিয়ে রয়েছে। রংপুরে এগিয়ে জামায়াত আর বরিশালে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। ভোটের ক্ষেত্রে বিএনপি পেয়েছে ৪১ দশমিক ৩০ শতাংশ, জামায়াত ৩০ দশমিক ৩০ শতাংশ, আওয়ামী লীগ ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৪ দশমিক ১০ শতাংশ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটের মাঠে এখনই নেমে পড়া উচিত বিএনপির। দেরি হলে জামায়াত প্রচারণায় এগিয়ে যাবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সাধারণ ভোটাররা বিএনপিকে ক্ষমতায় দেখতে মুখিয়ে আছে, কিন্তু মাঠে নামতে বিলম্ব হলে সমর্থন ক্ষয়ে যেতে পারে।রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. নুরুল আমিন ব্যাপারী বলেন, “জামায়াত প্রার্থী ঘোষণা করে ঘরে ঘরে যাচ্ছে। বিএনপির উচিত দ্রুত মাঠে নামা, না হলে প্রচারণায় পিছিয়ে পড়বে।”
বিশ্লেষণে দেখা যায়, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপির সমর্থন বাড়ছে, আর শিক্ষা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জামায়াতের প্রতি ঝোঁক বাড়ছে। নারীদের মধ্যেও জামায়াতের প্রভাব তুলনামূলক বেশি।
তৃণমূল পর্যায়ে নেতাদের মধ্যে মনোনয়ন নিয়ে দৌড়ঝাঁপ থাকলেও এখনো প্রার্থী ঘোষণা না করায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, পরীক্ষিত ও ‘বুনিয়াদি বিএনপি নেতাদের’ মনোনয়ন দিলে ইতিবাচক বার্তা যাবে, কিন্তু হাইব্রিড ও সুবিধাবাদীদের প্রাধান্য পেলে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা স্পষ্টভাবে বলছেন—জরিপে এগিয়ে থাকলেও বিএনপিকে আর বিলম্ব না করে এখনই মাঠে নামতে হবে, নইলে নির্বাচনী যুদ্ধে অগ্রাধিকার হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে।