
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মদিন আজ (১৫ আগস্ট)। এ উপলক্ষে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলো সারাদেশে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে। তবে কেক কাটা বা অন্য কোনো আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান থাকছে না—এটি খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত নির্দেশ।
১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি ইস্কান্দার মজুমদার ও তৈয়বা মজুমদার দম্পতির তৃতীয় সন্তান। ১৯৮১ সালের ৩০ মে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে নিহত হওয়ার পর বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন খালেদা জিয়া। ১৯৯১ সালে তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে পুনরায় সরকার গঠন করেন।
২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের সময় তিনি কারাবন্দি হন এবং দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক নির্যাতন ও মামলার মুখোমুখি ছিলেন। ২০২০ সালের মার্চে সরকার শর্তসাপেক্ষে তাঁর সাজা স্থগিত করে মুক্তি দেয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পরদিন রাষ্ট্রপতি তাঁর সাজা বাতিল করেন। চিকিৎসার জন্য লন্ডন থেকে ফেরার পর থেকে তিনি গুলশানের বাসা ‘ফিরোজায়’ অবস্থান করছেন।
দোয়া মাহফিলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি
আজ বেলা ১১টায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় নয়াপল্টনে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল হবে। এতে নেতারা উপস্থিত থেকে শুধু খালেদা জিয়ার জন্য নয়, মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনা করবেন।
দলের এক বিজ্ঞপ্তিতে সব স্তরের নেতাকর্মীকে জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা বা আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনরা আজ খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করবেন।

📌 খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক টাইমলাইন
১৯৪৫ – ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্ম
১৯৮১ – জিয়াউর রহমান হত্যার পর বিএনপিতে যুক্ত
১৯৯১ – দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত
১৯৯৬ – দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী, তবে মেয়াদ স্বল্প
২০০১ – পুনরায় প্রধানমন্ত্রী, চারদলীয় জোটের নেতৃত্বে সরকার গঠন
২০০৭ – ওয়ান-ইলেভেনের সময় গ্রেফতার ও কারাবাস
২০১৮ – জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজা
২০২০ – শর্তসাপেক্ষে মুক্তি
২০২৪ – গণঅভ্যুত্থানের পরদিন রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে সম্পূর্ণ মুক্তি