রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরনাম :
মাগুরায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আরিফুজ্জামানের নেতৃত্বে মহম্মদপুরে চিকিৎসকের ওপর হামলা, ডিএসবি কনস্টেবল লাঞ্ছিত 🌾 মাগুরা-১ ও ২ আসনে ধানের শীষের জয়ধ্বনি: বেসরকারিভাবে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থীরা চ্যানেল আইয়ে ঢাকা ব্যাংক–আনন্দ আলো সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫-এর জমকালো আয়োজন সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর প্রশাসন : মাগুরা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা নির্বাচন ও ধর্মীয় ছুটিতে ফেব্রুয়ারিতে টানা ৫ দিন বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাগুরায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ট্রাকের ধাক্কায় পুলিশ সদস্যের অকাল মৃত্যু, মাগুরায় হত্যা মামলার আসামি সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে গণধোলাই, হাসপাতালে ভর্তি জনগণের ইচ্ছাই চূড়ান্ত’—শেখ হাসিনার সন্তানদের রাজনীতি নিয়ে তারেক রহমানের বক্তব্য মাগুরায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র‍্যালি ও সমাবেশ ২২ বছর পর খুলনায় তারেক রহমান, সোমবার মহাসমাবেশে নেতৃত্ব দেবেন

মাগুরায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আরিফুজ্জামানের নেতৃত্বে মহম্মদপুরে চিকিৎসকের ওপর হামলা, ডিএসবি কনস্টেবল লাঞ্ছিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. আসাদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, একদল যুবক লাঠিসোঁটা নিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসকের কক্ষে প্রবেশ করে হামলা চালায়। হামলা প্রতিরোধ করতে গিয়ে ডিএসবি কনস্টেবল মাইনুল ইসলামও আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং তাঁর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, মহম্মদপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান মিল্টনের নেতৃত্বে একদল যুবক এ হামলায় জড়িত। হামলাকারীদের মধ্যে তাঁর ছোট ভাইসহ কয়েকজন অনুসারীও সরাসরি অংশ নেন। সিসিটিভি ফুটেজে মারুফ নামের এক যুবককে লাঠি দিয়ে চিকিৎসককে আঘাত করতে দেখা গেছে। তবে নীল কোট পরিহিত এক ব্যক্তিকে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করতে দেখা গেছে।
আহত আরএমও ডা. মো. আসাদুর রহমান বলেন,
“আমি পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলাম। হঠাৎ একদল যুবক আমার কক্ষে ঢুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং কিছু বোঝার আগেই আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করে।”
ডিএসবি কনস্টেবল মাইনুল ইসলাম জানান,
“প্রথমে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করি। ব্যর্থ হয়ে ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় আমার চোখে আঘাত লাগে।”
এ বিষয়ে আরিফুজ্জামান মিল্টনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,
“একজন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীর চিকিৎসা নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আমার সঙ্গে থাকা লোকজন ডাক্তারের ওপর হামলা করে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক, এটি ঠিক হয়নি।”
মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান জানান,
“ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের অনেকেই বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হলেও এটি কোনো দলীয় ইস্যু নয়। স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতির এক আত্মীয় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। চিকিৎসকের পাশের চেয়ারে বসতে নিষেধ করাকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে এ মারধরের ঘটনা ঘটে।”
অভিযুক্ত আরিফুজ্জামান মিল্টনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয় এবং পরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে; তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসকরা তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাঁদের মতে, কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সঠিক চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হবে। স্থানীয় সচেতন মহলও বলছে, অভিযোগ থাকলে তা আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক পথে সমাধান করা উচিত; হাসপাতালকে নিজেদের হাতে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ