
মাগুরা জেলা থেকে রাজধানী ঢাকার মিরপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে এসে রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন রাশেদা আক্তার (১৮) নামে এক তরুণী। তিনি মাগুরা সদর উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
গত সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) জরুরি বিভাগের সামনে একটি ট্রলি থেকে রাশেদার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
রাশেদা আক্তার আলোকদিয়া অমরেশ বসু ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। মাত্র ১৬ দিন আগে ভর্তি কোচিং করতে তিনি ঢাকায় আসেন এবং মিরপুরে তার বোনের বাসায় অবস্থান করছিলেন।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, গত শনিবার রাতে বোনের বাসার সামনে প্রতিবেশী যুবক নয়ন ইসলামের সঙ্গে কোনো একটি বিষয় নিয়ে রাশেদার তর্কাতর্কি হয়। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
পরিবারের অভিযোগ, সোমবার সন্ধ্যায় এক ব্যক্তি নিজেকে রাশেদার ‘স্বামী’ পরিচয় দিয়ে ঢামেক হাসপাতালের সামনে মরদেহটি রেখে দ্রুত পালিয়ে যায়।
নিহতের বোন খালেদা আক্তার ও ভগ্নিপতি মামুন জানান, গ্রামের প্রতিবেশী মতিউর রহমানের ছেলে নয়ন ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে রাশেদাকে উত্যক্ত করে আসছিল। তাদের দাবি, নয়ন ইসলামই শ্বাসরোধ করে রাশেদাকে হত্যা করে মরদেহ হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে গেছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত নয়নের পরিবার এলাকা ছেড়ে পলাতক রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে ঢামেক মর্গে গিয়ে স্বজনরা মরদেহ শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় মিরপুর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম আজম জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।