রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরনাম :
ফাহমিদা হকের মনোনয়ন: সমালোচনার জবাবে যা বললেন জিল্লুর রহমান পরিবেশ রক্ষায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতি: স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মুকিত মজুমদার বাবু এসএসসি পরীক্ষার দ্বারপ্রান্তে শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষক আফরোজা খাতুনের মমতাভরা বার্তা কিংবদন্তি কণ্ঠের বিদায়: আশা ভোঁসলেকে ঘিরে স্মৃতি আর আবেগ মাগুরায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক ও জলাবদ্ধতা নিরসনে আশাবাদ মাগুরায় স্পোর্টস একাডেমির যাত্রা শুরু, ক্রীড়া উন্নয়নে জোরালো দাবি মাগুরার আড়পাড়ায় অনিয়মের ছড়াছড়ি, ভোক্তা অধিকার অভিযানে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা মাগুরায় খাল পুনঃখনন শুরু: জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা সুপারিশে অনুমতি, বাস্তবে কেলেঙ্কারি—লটারির টাকা নিয়ে উধাও বিএনপি নেতা বেসরকারি খাতের ‘উপদেষ্টা পরিষদ’ নয়—বিভ্রান্তি দূর করল বিডা

ধানের শীষের কান্ডারী হতে চান শামসুল আলম: মাগুরার উন্নয়ন, রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় অকপট

মাগুরা টাইমস ডেস্ক:

মাগুরা জেলা ছাত্রদলের প্রথম সভাপতি বর্তমান বিএনপি নেতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক শামসুল আলম ।সম্প্রতি ব্যাপক জনপ্রিয় টক শো অনুষ্ঠান “মাগুরা টক”নামে একটা টকশো অনুষ্ঠানে মাগুরার উন্নয়ন ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজেকে প্রার্থী ঘোষণা করে মাগুরার উন্নয়ন ও তার নিজস্ব পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন। তার পরিকল্পনাগুলো সাক্ষাৎকার হিসাবে উপস্থাপন করা হল।

মাগুরা টক:
জনাব সামছুল আলম, কেমন আছেন?

সামছুল আলম (বিএনপি নেতা):
আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। শুরুতেই মাগুরা টককে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। মাগুরা টকের মাধ্যমে মাগুরাবাসীকেও শুভেচ্ছা ও সালাম জানাচ্ছি।

মাগুরা টক:
আপনাকে মাগুরায় না চেনে এমন কেউ খুঁজে পাওয়া কঠিন। তবে দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় নতুন প্রজন্মের সঙ্গে এক ধরণের জেনারেশন গ্যাপ তৈরি হয়েছে। আপনি ছাত্রদল থেকে উঠে এসেছেন, দলের প্রতি নিবেদিত একজন কর্মী। শুনেছি, আপনি কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্যপদের জন্যও চেষ্টা করছেন এবং মাগুরা-১ আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী হতে যাচ্ছেন। আপনি মাগুরার রাজনীতি ও উন্নয়ন নিয়ে কী পরিকল্পনা করছেন?

সামছুল আলম:
ধন্যবাদ। আমি ১৯৭৮ সালে বিএনপির সদস্য হই, তখন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। শ্রীপুর ডিগ্রি কলেজে পড়ার সময় এরশাদবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করি। ১৯৮৫ সালে এরশাদের প্রোগ্রাম প্রতিহত করি এবং ক্ষতিগ্রস্ত হই। এরপর মাগুরা সরকারি কলেজে পড়াকালীন, মাগুরা জেলা ঘোষণার পর আমি মাগুরা ছাত্রদলের প্রথম সভাপতি নির্বাচিত হই, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর জেনারেল এম মজিদুল হক সাহেবের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে।

আমার নেতৃত্বে ছাত্রদলের কলেজ কমিটিতে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের অনেকেই আজ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন—যেমন ওবায়দুর রহমান (বর্তমান শিল্প সচিব), ফারুকুজ্জামান ফারুক (বর্তমান বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক)। আমরা ১৯৮৮ সালে কলেজ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিই। ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জয় ছিনিয়ে নেওয়া হলেও বিএনপিকে সুসংগঠিত করতে পেরেছি।

১৯৯১ সালে সরকার গঠনের পর আমি জেনারেল এম মজিদুল হক সাহেবের সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করি এবং মাগুরা জেলার নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিই। মাগুরা পৌরসভা তখন এ-ক্যাটাগরিতে উন্নীত হয়, কুমার নদীর উপর ব্রিজ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিল্ডিং, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিআরটিএ অফিস, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ইত্যাদি প্রতিষ্ঠিত হয়।

মাগুরা টক:
টেক্সটাইল মিল এবং স্টেডিয়ামের কথা বলবেন?

সামছুল আলম:
টেক্সটাইল মিল ও স্টেডিয়াম তৈরি হয় ১৯৭৯ সালে, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী মেজর জেনারেল এম মজিদুল হক সাহেবের আমলে। বর্তমান স্টেডিয়ামের জায়গাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি ছিল, সেটি স্টেডিয়ামের জন্য বরাদ্দ করা হয়। বর্তমানে নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। আমরা চাই যথাযথ ইতিহাস রক্ষিত হোক।

মাগুরা টক:
আপনার মতো নেতা এবং মজিদুল হক, কবির মুরাদের মতো ব্যক্তিত্ব থাকা সত্ত্বেও জেলা আহ্বায়ক কমিটিতে আপনার বা তাদের পরিবারের কাউকে রাখা হয়নি। এ বিষয়ে কী বলবেন?

সামছুল আলম:
বিএনপির প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই ছাত্রদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। দেশের অন্যান্য জেলার মতো আমাদেরও ছাত্রনেতারা বর্তমানে নেতৃত্বে আছেন। কিন্তু মাগুরার রাজনীতি এখনো ছাত্রদলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত নয়। অনেক বহিরাগত মানসিকতার লোক দলে ঢুকেছে, ফলে বিভাজন তৈরি হয়েছে। আশা করছি, ছাত্রদলের নেতৃত্বে পুনর্গঠন করা হলে বিএনপি আবার সুসংগঠিত হবে।

মাগুরা টক:
আপনি যদি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, তাহলে মাগুরা নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

সামছুল আলম:
প্রথমেই মাগুরাকে হিংসা ও দখলদারিত্বমুক্ত করব। স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়ন আনব, যেখানে বর্তমানে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। মেডিকেল কলেজ আছে, কিন্তু ভবন নাই, জমি অধিগ্রহণ হয়নি। শিক্ষা খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনব—নিয়োগে ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্ত একটি পরিবেশ তৈরি করব। পৌরসভাকে মডেল পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলব, মাস্টার প্ল্যান তৈরি করব। বেকারদের জন্য ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলা হবে, যাতে ১০ হাজারের বেশি চাকরি সৃষ্টি হয়।

মাগুরা টক:
আপনার সময়ে ছাত্রদলে অনেক মেধাবী নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে। কিন্তু এখন দেখা যায় অনেকে রাজনীতি থেকে দূরে সরে গেছে।

সামছুল আলম:
ছাত্রদলের ছেলেরাই এখনও বিএনপিকে টিকিয়ে রেখেছে। শাহেদ হাসান টগর, সাখাওয়াত ভাই, ওবায়দুর রহমানের মতো ব্যক্তিরা ছাত্রদলের হাত ধরেই এসেছেন। যারা ডরমেন্ট অবস্থায় আছেন, তাদের মূল্যায়ন হবে। ছাত্রদল ছিল এবং থাকবে বিএনপির প্রাণশক্তি।

মাগুরা টক:
তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে আপনার বার্তা?

সামছুল আলম:
তরুণ প্রজন্মকে ধন্যবাদ। তারা কঠিন সময়ে দলকে ধরে রেখেছে। শহীদ হয়েছে ছাত্রদলের রাব্বি সহ অনেকেই। আমি বলব, তরুণরা সহনশীল থাকুক, দলীয় আদর্শে অটল থাকুক। আপনারা মূল্যায়িত হবেন, আপনারা হচ্ছেন বিএনপির ভবিষ্যৎ।

মাগুরা টক:
গোপালগঞ্জের এনসিপি ঘটনার প্রেক্ষিতে আপনার মতামত?

সামছুল আলম:
গোপালগঞ্জের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এনসিপি বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের অংশীদার। গোপালগঞ্জবাসীর এমন হামলা অনভিপ্রেত, এবং এ ঘটনায় ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত। মিডফোর্ডের ঘটনাও ষড়যন্ত্রমূলক। বিএনপি সন্ত্রাসে বিশ্বাস করে না, তারেক রহমানের ৩১ দফা হলো জাতির মুক্তির রূপরেখা।

মাগুরা টক:
বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে আপনার মূল্যায়ন?

সামছুল আলম:
চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস—এসব সবই পূর্ববর্তী সরকারের সৃষ্ট। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও অনেকাংশে প্রভাবিত। একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশের স্থিতিশীলতা ও আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তাই অবিলম্বে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আহ্বান জানাচ্ছি।

মাগুরা টক:
ধন্যবাদ জনাব সামছুল আলম। প্রিয় মাগুরাবাসী, তিনি ছিলেন ৯০-এর গণ-আন্দোলনের ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক, একজন মেধাবী ছাত্রনেতা, এবং এবার মাগুরার ধানের শীষের কান্ডারী হতে যাচ্ছেন। আশা করি আবারও দেখা হবে পরবর্তী কোনো আয়োজনে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ