
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তপশিল ঘোষণা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি তপশিল ঘোষণা করেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঘোষণা প্রচারিত হয়।
ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট। সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৬ লাখের বেশি। প্রবাসী বাংলাদেশিরাও পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত ৩ লাখের বেশি প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন করেছেন।
এদিকে তপশিল ঘোষণার পর নির্বাচনী আইন মানতে রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্য থাকবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,
‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা থাকলে নির্বাচন আরও সুষ্ঠু হবে বলে আমরা আশা করি।’
তিনি আরও জানান, ৩০০ আসনেরই তপশিল ঘোষণা করা হবে। গাজীপুর ও বাগেরহাটের সীমানা আদালতের আদেশ অনুযায়ী সংশোধনের কাজ চলছে।
পোস্টাল ব্যালট বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারি চাকরিজীবী, নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন। এ জন্য অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করা যাবে। তপশিল ঘোষণার পর থেকেই নিবন্ধন শুরু হবে।
– পোলিং অফিসারদের নিবন্ধন: ১৬–১৭ ডিসেম্বর
– আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের নিবন্ধন: ২১–২৫ ডিসেম্বর
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দিয়েছে ইসি। নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে জানানো হয়—
তফশিল ঘোষণার পরদিন থেকে ভোটগ্রহণের দুদিন পর পর্যন্ত মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ এর আওতায় দেশব্যাপী প্রতি উপজেলা/থানায় কমপক্ষে দুইজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।