
আমি কখনো ভোলাগঞ্জ সাদা পাথরে যাইনি। সামাজিক মাধ্যমে বন্ধুদের ছবিতে যখন দেখি, মনে হয়— কত সুন্দর জায়গা! পাহাড়ের কোলে, নদীর জলে, শুভ্র সাদা পাথরের অপরূপ সমারোহ। কিন্তু আজ সেই জায়গাটির ছবির সঙ্গে তুলনা করলে মনে হয়— কেউ যেন রাক্ষসের মতো জায়গাটিকে গ্রাস করে ফেলেছে। ভোলাগঞ্জ আর আগের মতো নেই, আর কোনোদিনও হবে না। মনে হচ্ছে যেন নিজের স্বজন হারিয়ে ফেলেছি।
আমাদের দেশে পরিবেশ রক্ষার কথা বললেই যে ক’টি নাম মনে আসে, রেজওয়ানা হাসান তাদের অন্যতম। পরিবেশের জন্য আজীবন কাজ করেছেন, সরকারের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে লড়েছেন, এজন্য ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে আক্রমণের শিকারও হয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়— বছরের পর বছর প্রকাশ্যে ভোলাগঞ্জ থেকে পাথর লুট হয়ে গেল, অথচ কি করে সেই খবর তার কাছে পৌঁছায়নি? পরিবেশের সঙ্গে যার আত্মার যোগ, তার টনক কেউ নাড়াতে পারল না? নাকি এই লড়াই কেবল এনজিও প্রকল্পের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ ছিল?
একটি উদাহরণ ধরা যাক— সেন্ট মার্টিনের প্রবাল এক বছরে কেউ তুলে নিতে পারবে না, কারণ সরকার সেখানে কঠোর। তাহলে সাদা পাথরের ক্ষেত্রে কেন সরকার এত উদাসীন? এখানে কি সরকারের চেয়ে ক্ষমতাবান কেউ আছে?
যদি কোনো রাজনৈতিক দলের জেলা সভাপতি সরকারের চেয়েও প্রভাবশালী হয়ে যান, আর একজন পরিবেশ উপদেষ্টা সেটা প্রকাশ্যে বলেন, তখন লজ্জা আমাদের সবারই পাওয়া উচিত। প্রশ্ন হলো, রেজওয়ানা হাসানেরও কি খারাপ লাগে? নাকি ক্ষমতার চেয়ারে বসলে সবাই শেষ পর্যন্ত একই রকম হয়ে যায়— অন্ধ, বধির, আপসকামী ও দায়হীন?
ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর আর ফিরবে না। কিন্তু আমরা কি আমাদের বিবেক ফিরিয়ে আনতে পারব?
— নাজনীন মুন্নির ফেসবুক ওয়াল থেকে