
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে আলোচনার মধ্যে এবার মুখ খুলেছেন জিল্লুর রহমান।
তার স্ত্রী ফাহমিদা হক সম্প্রতি বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পান। এই মনোনয়ন ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা আলোচনা ও সমালোচনা।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিজের অবস্থান তুলে ধরে জিল্লুর রহমান বলেন, এই মনোনয়ন কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পৃক্ততা ও জনপরিসরে সক্রিয় অংশগ্রহণেরই ফল।
দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার ফল
![]()
তিনি জানান, ফাহমিদা হক বহু বছর ধরে লেখালেখি, সামাজিক উদ্যোগ এবং নীতিনির্ধারণী আলোচনার সঙ্গে যুক্ত। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার রাজনৈতিক আগ্রহকে ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছে।
তার ভাষায়, সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন পাওয়া এই ধারাবাহিক পথচলার একটি নতুন অধ্যায়।
আগে ঘোষিত তালিকায় স্থান
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মোট ৩৬ জন প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে, যেখানে ফাহমিদা হকের নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই প্রক্রিয়ায় ১,০২৫টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয় এবং প্রায় ৯০০ জন প্রার্থী আবেদন জমা দেন, যা ব্যাপক আগ্রহেরই প্রমাণ।
পেশাগত অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট বার্তা
সমালোচনার জবাবে জিল্লুর রহমান আরও বলেন, তার নিজস্ব পেশাগত পরিচয়—সাংবাদিক, কলামিস্ট, টকশো উপস্থাপক এবং Center for Governance Studies (সিজিএস)-এর প্রধান হিসেবে—স্বাধীন ও নিরপেক্ষ থাকবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন,
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একই পরিবারের সদস্যরা ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকায় থাকতে পারেন, তবে পেশাগত সততা ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রত্যাশা ও অঙ্গীকার
স্ত্রীর জন্য শুভকামনা জানিয়ে তিনি বলেন, ফাহমিদা হক সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করবেন এবং জাতীয় সংসদে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন।
একইসঙ্গে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে জানান, ভবিষ্যতেও সাংবাদিকতা ও নীতি-গবেষণার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা, দায়িত্ববোধ ও ন্যায়পরায়ণতার নীতিতে কাজ করে যাবেন।

ফাহমিদা হকের মনোনয়নকে ঘিরে বিতর্ক থাকলেও, জিল্লুর রহমান এটিকে দীর্ঘদিনের সামাজিক কাজের স্বাভাবিক অগ্রগতি হিসেবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং নিজের পেশাগত নিরপেক্ষতার বিষয়টি জোর দিয়ে তুলে ধরেছেন।