
মাগুরা জেলা শিক্ষা অফিসার আলমগীর কবিরকে বদলির মাধ্যমে বেকায়দায় ফেলতে একাধিক ষড়যন্ত্রে জড়িত হয়েছেন জেলার সাবেক সহকারী পরিদর্শক মাজেদ উর রহমান এবং তার স্কুলজীবনের শিক্ষক, বর্তমানে সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার প্রদ্যুৎ কুমার দাস। অভিযোগ রয়েছে—এই ষড়যন্ত্রে তারা অফিস সহকারী নজরুলকেও ব্যবহার করছেন।
প্রায় চার মাস আগে মাগুরায় সহকারী শিক্ষকদের জন্য আইসিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। সেই প্রশিক্ষণকে কেন্দ্র করে খাবার, নাস্তা ও ফাইল ফোল্ডারের মান নিম্নমানের ছিল বলে জেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরিচয় ব্যবহার করে জেলা শিক্ষা অফিসার ও ডিস্ট্রিক্ট ট্রেনিং কো-অর্ডিনেটর ইলতুৎমিস জাহিদের নামে মিথ্যা অভিযোগ দাখিল করা হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে—এসব অপপ্রচারের জন্য কিছু শিক্ষককে চাপ প্রয়োগ করে অডিও বার্তা ও লিখিত অভিযোগ দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
একজন শিক্ষক জানান, “আমাদের বলা হয়েছিল, যদি লিখিতভাবে জানান যে প্রশিক্ষণের খাবার-নাস্তা নিম্নমানের ছিল, তাহলে জেলা শিক্ষা অফিসারকে বদলি করা যাবে এবং সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার প্রদ্যুৎ কুমার দাস চার্জে আসবেন।”
তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন। একজন শিক্ষক লিখিতভাবে এবং অডিও ক্লিপের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রের প্রমাণও দিয়েছেন।
৩৩ জন মাস্টার ট্রেনারের মধ্যে নাজমুল ইসলাম (সহকারী শিক্ষক, আলাইপুর মাদ্রাসা) ও ফারুক আহমেদ (সহকারী প্রধান শিক্ষক, এজি একাডেমি, মাগুরা)সহ অনেকেই জানান, “ট্রেনিং সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে, কোনো শিক্ষকের কোনো অভিযোগ ছিল না।” তারা লিখিতভাবে ধন্যবাদও জানিয়েছেন।
অফিসের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরাও জানান, তাদের নাম ব্যবহার করে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা লিখিত প্রতিবাদও জানিয়েছেন।
অফিসের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভাষায়,
“একই অফিসে থেকে উর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন ষড়যন্ত্র নিন্দনীয় ও লজ্জাজনক। এটি স্পষ্টতই জেলা শিক্ষা অফিসারকে বেকায়দায় ফেলার উদ্দেশ্যে করা।”
জানা যায়, তিন বছর আগেও সহকারী পরিদর্শক মাজেদ উর রহমান গণমাধ্যমে জেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে বদলির চেষ্টা করেছিলেন। তখন তিনি জেলা শিক্ষা অফিসারের রুমের ভিডিও ফুটেজ মিডিয়ার কাছে সরবরাহ করেছিলেন। তদন্তে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়। পরবর্তীতে অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারির অডিও ফাঁসের ঘটনায় তাকে পঞ্চগড়ে বদলি করা হয়।
জেলা শিক্ষা অফিসার আলমগীর কবির বলেন, “মাজেদুর রহমান বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সদ্য পঞ্চগড়ে বদলি হয়েছেন। এখন তিনি মরিয়া হয়ে আমাকে বেকায়দায় ফেলতে চাইছেন। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার প্রদ্যুৎ কুমার দাস ও অফিস সহকারী নজরুল।”
তার দাবি, “মাজেদুর রহমানের লক্ষ্য আমাকে সরিয়ে তার শিক্ষক প্রদ্যুৎ কুমারকে দায়িত্বে বসানো।”
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা জানিয়েছেন, “আমাদের শিক্ষা অফিসার অত্যন্ত সৎ ও আন্তরিক ব্যক্তি। প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাপনা ছিল ভালো মানের। এটি জেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।”
২৬ অক্টোবর সরজমিনে অনুসন্ধানে অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সবাই অভিযোগকে “মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে মন্তব্য করেছেন।
অন্যদিকে, যাদের নাম ব্যবহার করে অভিযোগ করা হয়েছে, তারা লিখিতভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
সাবেক পরিদর্শক মাজেদ উর রহমান বলেন, “আমি দুই মাস আগে মাগুরা থেকে বদলি হয়ে পঞ্চগড়ে এসেছি, এ বিষয়ে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।”
সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার প্রদ্যুৎ কুমার দাস বলেন, “একই অফিসে থেকে সিনিয়র কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো অপপ্রচারের সঙ্গে আমি জড়িত নই।”