উপমহাদেশের সংগীতজগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র আশা ভোঁসলে আর নেই—এমন খবরে সংগীতপ্রেমীদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। কয়েক দশক ধরে অসংখ্য কালজয়ী গানের মাধ্যমে তিনি জয় করেছেন কোটি মানুষের হৃদয়। বাংলা, হিন্দি সহ বিভিন্ন ভাষায় তার গাওয়া গান আজও সমানভাবে জনপ্রিয়।

সত্তরের দশকের শেষ দিকে, যখন দেশের গ্রামীণ জনপদে নৌকাই ছিল প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম, তখন কুমার নদে পাল তোলা নৌকায় ভেসে বেড়াতো গান। বিয়ের মৌসুমে বরযাত্রীদের নৌকায় মাইক বাজিয়ে শোনা যেত সেই সময়ের জনপ্রিয় সব গান। ঠিক এমনই এক দিনে নদীর বুকে ভেসে আসে— “কিনে দে রেশমী চুড়ি”—যা পরে জানা যায়, গেয়েছেন কিংবদন্তি শিল্পী আশা ভোঁসলে।

পঞ্চাশ বছর আগের সেই স্মৃতি আজও ভাসে—নৌকার দোলায় দুলতে দুলতে বাজতে থাকা সেই গান, আনন্দ আর আবেগে ভরা গ্রামীণ জীবনের এক অনন্য অধ্যায়।
এই মহান শিল্পীর কণ্ঠ শুধু গানেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্মের অনুভূতির অংশ হয়ে উঠেছিল। আজও অজান্তেই মানুষ গেয়ে ওঠে তার অগণিত জনপ্রিয় গান।
বাংলাদেশের আরেক কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লা -এর সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে একসাথে উপস্থিত থাকার বিরল সুযোগ হয়েছিল প্রতিবেদকের। সেই মুহূর্ত এখন শুধুই স্মৃতি। শুধু তাই নয়, সরাসরি কথা বলার সৌভাগ্যও হয়েছিল আশা ভোঁসলের সঙ্গে—যা জীবনের এক অমূল্য অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।
সংগীতের আকাশে এমন নক্ষত্রের প্রস্থান সত্যিই অপূরণীয় ক্ষতি।
তার গাওয়া গান, তার সুর—চিরকাল বেঁচে থাকবে মানুষের হৃদয়ে।
🕊️ গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা কিংবদন্তি আশা ভোঁসলের প্রতি।
শাহিনুর ইসলাম সিনিয়র ফটোগ্রাফার চ্যানেল আই সম্পাদক মাগুরা টাইমস টুয়েন্টি ফোর