বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৩:২৬ পূর্বাহ্ন
শিরনাম :
মাগুরার মহম্মদপুরে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান: অনিয়মে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা ও প্রতিষ্ঠান সিলগালা বেলনগরের কৃতি সার্ভেয়ার ও ফুটবলার মোঃ ওলিয়ার রহমান (আক্কাস মোল্লা) (আমিন) আর নেই মাগুরায় যাত্রা শুরু করলো “মাগুরা পেইন্ট গার্ডেন” এক ছাদের নিচে মিলছে দেশি-বিদেশি পাঁচ শীর্ষ পেইন্ট ব্র্যান্ডের সেবা আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে মাগুরায় পশু হাটে নিরাপত্তা জোরদার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেনের সাথে ইজারাদার ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভা পুলিশ সপ্তাহ–২০২৬ এ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে সাফল্য: মাগুরা জেলা পুলিশের অর্জন মাগুরায় অনুজ নাট্যাঙ্গনের ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন মাগুরায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত মাগুরা জেলা যুবদল সভাপতি কল্লোলের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন মাগুরায় পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদের দ্রুত পদক্ষেপে কলার হাট কেন্দ্রিক সম্ভাব্য সংঘর্ষ নস্যাৎ মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তি অধিনায়ক আকবর হোসেনের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরনিদ্রায় শায়িত বীর মুক্তিযোদ্ধা সার্জেন্ট বদরুল আলম

মাগুরা টাইমস ডেস্ক

মাগুরা সদর উপজেলার বেলনগর নিবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা, শ্রীপুর আকবর বাহিনীর অন্যতম কমান্ডার ও অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মোঃ বদরুল আলম রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার দুপুরে বেলনগর কবরস্থানে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
এর আগে জানাজা শেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয় এবং সশস্ত্র সালামের মাধ্যমে জাতির এই বীর সন্তানকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। জাতীয় পতাকায় মোড়ানো মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও সর্বস্তরের মানুষ।
শুক্রবার রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে নিজ বাড়ি, বেলনগরে বার্ধক্যজনিত কারণে ৮৬ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)

 

🇧🇩 মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাঁথা
বীর মুক্তিযোদ্ধা বদরুল আলম ছিলেন একাত্তরের সাহসী ফ্রন্ট ফাইটার এবং আকবরবাহিনী তথা শ্রীপুর বাহিনীর অন্যতম কমান্ডার।
২৬ মার্চ চট্টগ্রামের সিবিআরসি থেকে বিদ্রোহ করে তিনি মাগুরার বেলনগরে নিজ গ্রামে ফিরে আসেন। পরে শ্রীপুরের শ্রীকোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আকবর হোসেনের গঠিত মুক্তিযোদ্ধা দলে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন।
দারিয়াপুরে আত্মীয়ের বাড়ি হয়ে খামারপাড়ায় আকবর হোসেনের ক্যাম্পে গিয়ে প্রথম সাক্ষাৎেই সামরিক স্যালুট দেন তিনি। নিজের প্রশিক্ষিত সৈনিক পরিচয় ও যুদ্ধে অংশগ্রহণের দৃঢ় ইচ্ছা প্রকাশ করলে আকবর হোসেন তাঁকে সাদরে গ্রহণ করেন এবং বলেন—
“তোমার মতো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সাহসী সৈনিকের জন্যই অপেক্ষা করছিলাম।”
এরপর শুধু একজন যোদ্ধা হিসেবেই নয়, বরং অপারেশনাল কমান্ডার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন বদরুল আলম।
আকবরবাহিনীর হয়ে বিনোদপুর, নাকোল, ইছাখাদা, বরিশাট, রামদিয়া ও শৈলকূপাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধে অংশ নেন তিনি। শৈলকূপা থানা আক্রমণের সময় পাকবাহিনীর গুলিতে আহত হলেও যুদ্ধক্ষেত্র ছাড়েননি।
১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসে বিনোদপুর যুদ্ধে তাঁর সহযোদ্ধা শহীদ মুকুল তাঁর পাশেই গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন—সেই বেদনাদায়ক স্মৃতি তিনি আমৃত্যু বহন করে গেছেন।
🕯️ ব্যক্তিগত অনুভূতি ও শোক
মুক্তিযুদ্ধের এই সাহসী সারথীর মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
তিনি শুধু একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাই নন—তিনি ছিলেন ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী, এক অনুপ্রেরণার নাম।
তাঁর সঙ্গে নিয়মিত কথা হতো মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ নিয়ে। মাগুরা জেলার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি ডকুমেন্টারিতে তাঁর অবদান ও নাম বিশেষভাবে উঠে এসেছে।
তাঁর জীবনের ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ ডকুমেন্টারি নির্মাণের পরিকল্পনাও ছিল—স্ক্রিপ্ট প্রস্তুত ছিল, ইচ্ছা ছিল আগামী কোরবানির ঈদে তাঁর বাড়িতে গিয়ে কাজটি সম্পন্ন করার।
কিন্তু সেই আশা আর পূরণ হলো না…
🤲 শেষ বিদায়
চিরবিদায় নিলেন মাগুরার আকবরবাহিনীর এই বীর কমান্ডার।
স্যালুট আপনাকে, বদরুল আলম ভাই।
ওপারে ভালো থাকবেন।
✍️ প্রতিবেদন:
শাহিনুর ইসলাম
সিনিয়র ফটোগ্রাফার, চ্যানেল আই
উপস্থাপক ও পরিচালক
এস এইচ মিডিয়া অনলাইন | মাগুরা টক
সম্পাদক, মাগুরা টাইমস 24.com 🇧🇩


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ