মাগুরায় জুলাই আন্দোলনে শহীদ মেহেদী হাসান রাব্বী হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ৪ নম্বর আসামি মো. রুহুল মল্লিককে (৪০) আহত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে মামলার বাদী মো. ইউনুস আলীর মাধ্যমে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই কাজী এহসানুল হক জানতে পারেন—আসামি মো. রুহুল মল্লিক মাগুরা সদর উপজেলার পারনান্দুয়ালী এলাকার শান্তিপাড়ায় তার মামা শ্বশুরের বাড়িতে আত্মগোপনে রয়েছেন।
বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পর ঘটনার সত্যতা যাচাই ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সিসিআইসি মাগুরা জেলা, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং মাগুরা সদর থানার দিবাকালীন ইমার্জেন্সি টহল টিম বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে শান্তিপাড়া এলাকার শুকুর মিয়ার বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে।
এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখতে পায়, স্থানীয় উত্তেজিত জনতা বসতবাড়িতে প্রবেশ করে আসামিকে মারধর করছে এবং বাড়িতে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা চালাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করে এবং আসামিকে জনতার হাত থেকে উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালায়।
পরবর্তীতে থানা পুলিশ, ডিবি ও পুলিশ লাইন্স থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বিকেল আনুমানিক ৫টা ১০ মিনিটে মো. রুহুল মল্লিককে শুকুর মিয়ার বাড়ি থেকে উদ্ধার করে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আসামি মো. রুহুল মল্লিক মাগুরা সদর উপজেলার বরুনাতৈল এলাকার মৃত ওলিয়ার মল্লিকের ছেলে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, মো. রুহুল মল্লিক বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংশ্লিষ্ট দুটি হত্যা মামলাসহ মোট ১২টি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। রাজনৈতিক পরিচয়ে তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মাগুরা জেলা শাখার সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন এবং বর্তমানে আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত।
এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।