
জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান, সংক্ষানুপাতিক পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ, জুলাই গণহত্যার বিচার দৃশ্যমান করা এবং ফ্যাসিবাদের দোসর জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলের বিচার ও বিচার চলাকালীন তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবিতে সমমনা দল ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মাগুরা জেলা শাখার উদ্যোগে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার বিকাল ৩টায় নোমানী ময়দান থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। এতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহযোগী সংগঠন—ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন, ইসলামী যুব আন্দোলনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) ও মাগুরা জেলা সভাপতি আলহাজ্ব মুফতি মোস্তফা কামাল। তিনি তার বক্তব্যে বলেন—
“জাতীয় নির্বাচন অবশ্যই পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতিতেই হতে হবে। এই পদ্ধতি নিশ্চিত করবে গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতা, জনগণের সমান অংশগ্রহণ এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্ব নির্বাচন। এটি শুধু একটি নির্বাচনী ব্যবস্থা নয়, বরং জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক।

”মুফতি কামাল উল্লেখ করেন, মাগুরায় তালপাখা প্রতীক নিয়ে তিনি ২০০৮ ও ২০১৪ সালে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। এবারের নির্বাচনে প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন পদ্ধতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংগঠন ও মাঠ পর্যায়ের গণসংযোগ কার্যক্রম চলছে। তার বিশ্বাস, জনগণ পরিবর্তন চায় এবং ইসলামী আন্দোলনই সেই পরিবর্তনের বিকল্প শক্তি হয়ে উঠতে পারে।
সাংগঠনিক কার্যক্রম
মাগুরায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও সহযোগী সংগঠনসমূহ—ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন, ইসলামী যুব আন্দোলনের ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি গঠন সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ও ভোট সেন্টার কমিটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে গণসংযোগও জোরদার করা হয়েছে। আজ শত্রুজিতপুর ও গোপালগ্রাম ইউনিয়নে গণসংযোগ করেছেন নেতাকর্মীরা।
এই পুরো কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক ছাত্রনেতা ও বর্তমানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) এবং মাগুরা জেলা সভাপতি আলহাজ্ব মুফতি মোস্তফা কামাল।
জীবনপঞ্জি
মুফতি মোস্তফা কামালের জন্ম মাগুরার শালিখা উপজেলার পাঁচ কাহুনিয়া গ্রামে। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন নিজ গ্রামের বিদ্যালয় থেকে। পরবর্তীতে উচ্চতর ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করেন চরমোনাই জামিয়া রশিদিয়া ইসলামিয়া বরিশালে, জামিয়া শারইয়্যা মালিবাগ ঢাকায় তাকমীল (দাওরায়ে হাদীস), এবং কামরাঙ্গীরচর জামিয়া নূরিয়া ইসলামিয়ায় ইফতা বিভাগ থেকে।
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে টানা দুই সেশন দায়িত্ব পালন করেন। পরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পল্টন থানার সাংগঠনিক সম্পাদক, মতিঝিল থানার সেক্রেটারি, মাগুরা জেলা সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) ও মাগুরা জেলা সভাপতি। এছাড়াও তিনি ঢাকাস্থ শালিখা উপজেলা সমিতির সহ-সভাপতি।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি নানা নির্যাতন ও কারাভোগের শিকার হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জননিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় দীর্ঘ সময় কারাভোগ করেন। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি ৫ আগস্ট পর্যন্ত সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং বিভিন্ন সময় হামলারও শিকার হয়েছেন।
মাগুরার জন্য ভিশন
শেষে মাগুরাবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন—
“মাগুরাবাসীর দুঃখ–কষ্টে আমি সবসময় পাশে ছিলাম, আছি, ইনশাআল্লাহ থাকব। আমাদের লক্ষ্য হবে বেকার সমস্যা হ্রাস, সন্ত্রাসমুক্ত ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, দুর্নীতি কমানো এবং নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা। তালপাখা প্রতীক জনগণের প্রতীক—এটিকে আমরা প্রতিদিন কাজে রূপান্তর করব।”

এছাড়া জনপ্রিয় টকশো “মাগুরা টক”-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুফতি মোস্তফা কামাল বলেন
“আমি মাগুরাকে আধুনিক ইসলামিক মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। বেকার সমস্যা, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদকের মতো সামাজিক সমস্যা সমাধান আমার অগ্রাধিকার। পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন এবং যুব সমাজের সৃজনশীল বিকাশ নিশ্চিত করতে আমাদের বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জনসেবার উন্নয়ন আমাদের মূল লক্ষ্য।”