স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনকে ঘিরে একদিকে আদালতের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে মাগুরা জেলা ক্রীড়া কমিটিতে তার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে।
গত ২৪ মে ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে তার বিদেশ যাত্রা নিষিদ্ধ ও এনআইডি ব্লকের নির্দেশ দেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের মাধ্যমে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।
ঠিক এমন প্রেক্ষাপটে ১৫ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ঘোষিত জেলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটিতে সদস্য হিসেবে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হলে মাগুরার ক্রীড়াঙ্গনে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা বলছেন, ক্রীড়াঙ্গন হলো তরুণ প্রজন্মের প্রেরণার কেন্দ্র। সেখানে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে সততা, যোগ্যতা ও সামাজিক ভাবমূর্তি সর্বাগ্রে বিবেচনা করা জরুরি।
আরাফাত রহমান কোকো স্পোর্টিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মাহাবুল ইসলাম মানু দুজনেই পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত দেন—অভিযোগ বা বিতর্কিত অতীত যাদের আছে, তাদের দায়িত্বে আনা হলে ক্রীড়াঙ্গনের পরিবেশ নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।
স্থানীয় ক্রীড়াবিদ ও সাধারণ ক্রীড়াপ্রেমীরাও মনে করছেন, এডহক কমিটির নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় ও ক্রীড়া পরিষদের স্বচ্ছতা ও যথাযথ যাচাই প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা উচিত। অন্যথায় ক্রীড়াঙ্গনে আস্থার সংকট দেখা দিতে পারে।তবে জেলা ক্রীড়া সংস্থার দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, বিষয়টি মন্ত্রণালয় ও ক্রীড়া পরিষদের অধীনে হয়েছে বলে তারা এখনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে পারছেন না। অন্যদিকে মোয়াজ্জেম হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।