
বেকারত্ব দূরীকরণ, মাদকমুক্ত সমাজ ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা তাঁর রাজনৈতিক অগ্রাধিকার।
সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) এম মজিদুল হক ছিলেন আধুনিক মাগুরার রূপকার। তাঁর নেতৃত্বে মাগুরা পেয়েছিল উন্নয়নের নতুন দিগন্ত। এবার তাঁর কন্যা, চিকিৎসক ও কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব ডা. সিমিন এম আখতার বাবার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার অঙ্গীকার নিয়ে রাজনীতিতে আসছেন। তিনি জানিয়েছেন, যদি ধানের শীষের কান্ডারী হতে পারেন, তবে মাগুরাকে একটি “মডেল মাগুরা” হিসেবে গড়ে তোলাই হবে তাঁর মূল লক্ষ্য।
পারিবারিক ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার
ডা. সিমিন বেড়ে উঠেছেন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের ঐতিহ্যে। তাঁর দাদী বেগম ওয়াজেদা আহমেদ ছিলে

সামাজিক ও প্রফেশনাল অবদান
ন রত্নগর্ভা মা, যিনি স্বাস্থ্যসেবা ও মেয়েদের শিক্ষার প্রসারে অসামান্য অবদান রাখেন। তাঁর মা জেবুননেসা মজিদ নারীর ক্ষমতায়ন, সেলাই প্রশিক্ষণ, খেলাধুলা ও সংস্কৃতির বিকাশে মাগুরায় অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। পরিবারের এই ঐতিহ্যই ডা. সিমিনকে অনুপ্রাণিত করেছে মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসতে।
পেশাগত জীবনে দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যসেবা ও কর্পোরেট নেতৃত্বে কাজ করেছেন ডা. সিমিন। প্রাভা হেলথের প্রধান অপারেটিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি দেশের স্বাস্থ্য খাতে ইতিবাচক অবদান রেখেছেন।
মাগুরাতেও তিনি ইতিমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি ও তাঁর ভাইরা—ইশতিয়াক মজিদ ও ডা

. ইমতিয়াজ মজিদ—মাগুরা ডায়াবেটিক সমিতির লুৎফর রহমান হাসপাতালে আধুনিক অপারেশন থিয়েটার ও ইনডোর কার্যক্রম স্পন্সর করেছেন। উদ্বোধনের দিনেই সেখানে একটি শিশুর জন্ম হয়, যা যেন নতুন সময়ের সূচনা হিসেবে প্রতীকী হয়ে ওঠে। এছাড়া তিনি হাসপাতালের উন্নয়নে ১০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন এবং আধুনিক ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন।
রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
বিএনপি’র প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে মাগুরা-১ আসনে নির্বাচনে অংশ নিতে চান ডা. সিমিন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, তাঁর রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের কল্যাণের জন্য।
মাগুরা টাইমস ২৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডা. সিমিন বলেন:
“মাগুরাকে আমি ভালোবাসি। আমার পিতাও মাগুরাকে ভালোবাসতেন। সেই ভালোবাসার কারণেই তিনি মন্ত্রী হয়েছিলেন এবং মাগুরার মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছিলেন। তিনি মাগুরার মানুষকে অনেক কিছু দিয়ে গেছেন, যেটা আজও মানুষ ভোলেনি। আমি যেখানেই যাচ্ছি, সেখানেই বাবার স্মৃতিচারণ শুনছি। আমি চাই মাগুরার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকতে।”
তিনি আরও জানান, তাঁর অঙ্গীকার হলো—
. বেকারত্ব দূরীকরণ – শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
. মাদকমুক্ত সমাজ গঠন – তরুণদের জন্য বিকল্প সুযোগ তৈরি ও সচেতনতা বৃদ্ধি।
. আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা – হাসপাতাল ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো উন্নত করে সহজলভ্য চিকিৎসা নিশ্চিত করা।
ডা. সিমিন এম আখতার বলেন,“আমার বাবা মেজর জেনারেল (অব.) এম মজিদুল হক আধুনিক মাগুরার রূপকার ছিলেন। তাঁর অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করাই আমার জীবনের লক্ষ্য। মাগুরাকে একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলা আমার অঙ্গীকার।”
মাগুরাবাসীর প্রত্যাশা, বাবার উত্তরাধিকার ও নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে তিনি মাগুরায় নতুন উন্নয়নের যুগের সূচনা করবেন।