“বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী জিন্দাবাদ”—এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে মাগুরা-২ আসনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতা লে. কর্নেল এম এ হান্নান মৃধা (অব.)।
মুক্তিযোদ্ধা থেকে সেনা অফিসার
১৯৫৭ সালের ১০ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন হান্নান মৃধা। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। গঙ্গারামপুর হাইস্কুল থেকে এসএসসি, মাগুরা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি শেষে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে ভর্তি হয়ে ২য় বিএমএ লং কোর্স সম্পন্ন করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে তিনি গোলন্দাজ (আর্টিলারি) রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন সময়ে ২৬, ১৫, ১৪, ৬ ও ৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি ইউনিটে কর্মরত ছিলেন। পরে প্যারামিলিটারি বাহিনী আনসার একাডেমি এবং বাংলাদেশ রাইফেলসে (বর্তমানে বিজিবি) ব্যাটালিয়ন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দায়িত্ব ও অবদান

কর্মজীবনে তিনি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, এসএসএফ, দুর্নীতি দমন কমিশন, ডিজিএফআইসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষ করে দুর্নীতি দমন কমিশনে দায়িত্ব পালনকালে তার উদ্যোগে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সেনা ও প্যারা-মিলিটারি দায়িত্বকালেও তিনি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম হাতে নেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা ক্যাম্প পরিচালনা করার সময় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বাজার, স্কুল, কিয়াংঘর (উপাসনালয়) ও মসজিদ নির্মাণ করেন। সুন্দরবন এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগার ক্লাব’ ও দাতব্য চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া সীমান্ত এলাকায় স্কুল, সড়ক, বিদ্যুৎ সংযোগ ও জনকল্যাণমূলক অবকাঠামো নির্মাণে অবদান রাখেন।
অবসরের পর রাজনৈতিক যাত্রা
২০০৬ সালে তিনি স্বেচ্ছায় সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন। উদ্দেশ্য ছিল রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে মাগুরা-২ আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার উদ্যোগ নিলেও তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এক অসাংবিধানিক অধ্যাদেশের কারণে তিনি প্রার্থী হতে পারেননি।
হান্নান মৃধা অভিযোগ করেন—তৎকালীন নির্বাচন কমিশন, কিছু প্রভাবশালী আমলা ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের কারণে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। তিনি আইনি লড়াইয়ের জন্য ব্যারিস্টার ড. কামাল হোসেন ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম-এর সহায়তা চান, তবে কোনো প্রতিকার মেলেনি।
উন্নয়ন কর্মকাণ্ড
অবসরের পরও তিনি মাগুরা-২ আসনের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষা, অবকাঠামো ও সামাজিক উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
নহাটা গার্লস স্কুল ও আইডিয়াল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন।
মহম্মদপুর ও শালিখায় একাধিক সেতু, সড়ক ও বিদ্যুৎ সংযোগ বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখেন।
প্রস্তাবিত “নহাটা বিশ্ববিদ্যালয়” প্রকল্পের প্রধান উদ্যোক্তা হিসেবেও কাজ করছেন।
রাজনৈতিক অবস্থান
লে. কর্নেল হান্নান মৃধা (অব.) বিশ্বাস করেন—“জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস”। তিনি আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপির প্রতি আস্থাশীল এবং আগামী নির্বাচনে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অধীনে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা করছেন।
তার দাবি, জনগণের আস্থা, ভালোবাসা ও সমর্থন তাকে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী করতে সক্ষম করবে।
মুক্তিযোদ্ধা, সেনা কর্মকর্তা ও অভিজ্ঞ প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা লে. কর্নেল হান্নান মৃধা (অব.) এখন রাজনীতির ময়দানে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তার লক্ষ্য—মাগুরা-২ আসনকে জাতীয় উন্নয়নের দৃষ্টান্তে রূপান্তর করা।