
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, প্রায় ১৫ বছর আগে প্রথম শুনেছিলেন যে তিনি নাকি জামায়াতপন্থি এবং সাবেক শিবিরকর্মী। বিষয়টি ছিল সম্পূর্ণ গুজব। তিনি বলেন, “আমার পরিবার সুফি মুসলমান, চিন্তা ও বিশ্বাসে আমরা জামায়াতের একেবারে বিপরীত।”
এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ২০১০ সালে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) নির্বাচনে দাঁড়ানোর সময় এই গুজব ছড়ানো শুরু হয়। প্রতিপক্ষ তার সাংবাদিকতাকে নয়, ধর্মীয় পরিচয়কে টার্গেট করে। বলা হয় তিনি জামায়াত-শিবিরের লোক।

“প্রথমে গুরুত্ব দিইনি। ভেবেছিলাম, সত্য একদিন বের হয়ে আসবে। কিন্তু নির্বাচনের দিন দেখলাম, যাদের একসময় সাহায্য করেছি, তারাই চোখ ফিরিয়ে নিল,”—বলেছেন শফিকুল।
তিনি জানান, এরপর থেকে প্রায়ই যখনই তিনি মানবাধিকার লঙ্ঘন বা অন্যায় নিয়ে লেখেন, তখনই আবার এই গুজব মাথাচাড়া দেয়। অনেকে বলেন, “তিনি ইসলামপন্থিদের পক্ষ নিচ্ছেন”, শুধু এই কারণে যে তিনি নামাজ পড়েন বা তার স্ত্রী হিজাব পরেন।
তার মতে, সমাজে এখনও ‘ট্যাগিং সংস্কৃতি’ আছে—যেখানে প্রমাণ ছাড়াই কাউকে কোনো দল বা গোষ্ঠীর লোক বলে রটিয়ে দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য একটাই—কাউকে বদনাম করা বা চুপ করিয়ে দেওয়া।
তিনি বলেন, “আপনি যদি নামাজি হন এবং আওয়ামী লীগ করেন, সমস্যা নেই। কিন্তু আপনি নামাজি হয়ে বিরোধী মত পোষণ করলে, তখনই ট্যাগ লাগানো শুরু হয়।”
শেষে তিনি বলেন, “গত ১৫ বছরে অনেক মেধাবী তরুণের ক্যারিয়ার ধ্বংস হয়েছে। আশা করি, এই ভয় ও গুজবের সংস্কৃতি একদিন শেষ হবে।”